ইরান–এর ওপর হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনার ঝুঁকি তৈরি করেছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা অঞ্চলজুড়ে সংঘাতের বিস্তার ঘটাতে পারে, যা ইতোমধ্যে “প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেওয়ার” মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পাল্টা সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১.৯০২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা Anadolu Agency–এর সংগ্রহ করা তথ্য ও বিভিন্ন ওপেন সোর্স বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই আর্থিক ক্ষতির হিসাব করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে Al Udeid Air Base–এ। সেখানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক AN/FPQ-132 early warning radar system ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। কাতার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে রাডারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রাডার সিস্টেমের মূল্য প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার।
পরবর্তীতে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একটি ভুলবশত গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যেখানে তিনটি F-15 Strike Eagle যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। যদিও ছয়জন পাইলট অক্ষত থাকলেও বিমানগুলো পুনরায় ব্যবহারযোগ্য ছিল না। এই তিনটি যুদ্ধবিমান প্রতিস্থাপনে আনুমানিক ২৮২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরেকটি হামলায় United States Fifth Fleet Headquarters–এ আঘাত হানা হয়, যেখানে দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল এবং কয়েকটি ভবন ধ্বংস হয়। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্যবস্তু করা টার্মিনালগুলো AN/USC-52B satellite communication terminal মডেলের।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের Al Ruwais Industrial City–এ মোতায়েন করা AN/TPY-2 radar system ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণেও সেখানে ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই রাডারটির মূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বলে সামরিক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
মোট ক্ষয়ক্ষতির হিসাব যোগ করলে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ক্ষতি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে ইরান এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে Camp Arifjan, Ali Al Salem Air Base, Camp Buehring, Erbil International Airport Military Zone এবং Jebel Ali Port।
এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



