# সাইফের ফিফটিতে লড়াইয়ের পুঁজি পেলো ঢাকা ক্যাপিটালস
বিপিএলের মঞ্চ মানেই তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের প্রমাণ করার এক দুর্দান্ত সুযোগ। আর এমন এক মঞ্চে সাইফ হাসানের কাছে সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। মারকুটে এই ব্যাটারের ব্যাটিং স্টাইল, দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা তাকে নিয়ে এক দারুণ হাইপ তৈরি করেছিল। কিন্তু এবারের আসরের শুরুটা তার জন্য ছিল একেবারেই বিপরীত। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই তার ব্যাটে রান খরা চলছিল, যা শুধু সমর্থকদেরই নয়, দলের জন্যও তৈরি করছিল দুশ্চিন্তা।
প্রথম আটটি ম্যাচ খেলে তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৬০ রান, যা তার মতো মারকুটে ব্যাটারের জন্য একেবারেই বেমানান। এর মধ্যে দুবার আউট হয়েছেন শূন্য রানে, যা আরও হতাশাজনক। সাইফের এই নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স ঢাকা ক্যাপিটালসের ব্যাটিং অর্ডারে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করছিল। সমর্থকরা যখন প্রায় আশা ছেড়েই দিচ্ছিল, দলের যখন একজন অভিজ্ঞ ব্যাটারের অভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছিল, ঠিক তখনই যেন আলোর ঝলক হয়ে এলেন সাইফ।
অবশেষে, চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ঢাকা ক্যাপিটালসের যখন বড় রানের প্রয়োজন, তখন ব্যাট হাতে ঝলসে উঠলেন সাইফ হাসান। একপ্রান্ত আগলে রেখে খেললেন দায়িত্বশীল ইনিংস, একই সাথে সময় বুঝে চালালেন ব্যাট। তার ব্যাট থেকে বেরিয়ে এলো এক দুর্দান্ত ইনিংস, যা কেবল তার ব্যক্তিগত ফর্মের প্রত্যাবর্তনই নয়, বরং ঢাকা ক্যাপিটালসকে এনে দিল লড়াই করার মতো একটি স্কোর।
মাত্র ৪৪ বলে তিনি খেললেন ৭৩ রানের এক অসাধারণ ইনিংস। ৫টি ছক্কা ও ৬টি চারের মারে সাজানো এই বিস্ফোরক ইনিংসটি ঢাকার ব্যাটিংকে এক অন্য মাত্রা দেয়। এটি শুধু তার ব্যক্তিগত সেরা স্কোরই ছিল না, বরং দলের জন্য ছিল এক অমূল্য অবদান। সাইফের ব্যাট থেকে যখন একের পর এক বাউন্ডারি আসছিল, তখন যেন স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে নতুন করে প্রাণ ফিরে আসে। সমালোচনার জবাব যেন ব্যাট হাতেই দিলেন সাইফ।
সাইফের এই ইনিংসের কল্যাণেই ঢাকা ক্যাপিটালস শেষ পর্যন্ত ১ বল বাকি থাকতে ১৭০ রানে অলআউট হতে সক্ষম হয়। বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৭০ রান হয়তো খুব বড় স্কোর নয়, কিন্তু সাইফের লড়াকু ফিফটিই ঢাকা ক্যাপিটালসকে ম্যাচে টিকে থাকার আশা জোগায় এবং বোলারদের হাতে একটি ভালো পুঁজি তুলে দেয়।
দীর্ঘদিন ধরে রান খরায় ভোগা একজন ব্যাটারের এমন প্রত্যাবর্তন শুধু তার নিজের আত্মবিশ্বাসই বাড়াবে না, বরং পুরো দলের মনোবলও চাঙ্গা করবে। আশা করা যায়, সাইফের এই ইনিংসটি বাকি ম্যাচগুলোতে তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং ঢাকা ক্যাপিটালসও তার কাছ থেকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখতে পাবে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন অপেক্ষায়, সাইফের ব্যাট থেকে আরও এমন ঝলমলে ইনিংস দেখার জন্য, যা ঢাকা ক্যাপিটালসকে টুর্নামেন্টের সামনের ধাপগুলোতে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।



