হাদি হত্যায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাত: এমনই দাবি উঠছে**
সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে এসেছে যা আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিতে পারে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক এবং ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন পাঞ্জাবের স্বাধীনতাকামী শিখ জনগোষ্ঠীর একাংশ। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তারা আগামী বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলোর সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন।
এই বিস্ফোরক ঘোষণাটি এসেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা শিখস ফর জাস্টিসের (এসএফজে) জেনারেল কাউন্সেল গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নুনের একটি ভিডিও বার্তা থেকে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়ী করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
**দেশজুড়ে ভারতীয় দূতাবাসগুলোর সামনে বিক্ষোভের ডাক**
এসএফজে-এর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বুধবার নিজ নিজ স্থানীয় সময় অনুযায়ী দুপুর ১২টায় শিখ জনগোষ্ঠী ভারতীয় কনস্যুলেটগুলো বন্ধ করার দাবিতে বিক্ষোভ করবে। এই বিক্ষোভ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশে ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে ভারতের সরকারের হত্যা পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা এবং মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার বিষয়টি বিশ্ববাসীর সামনে আনা।
যেসব শহরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে তার মধ্যে রয়েছে: ঢাকা, পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ইতালির মিলান, কানাডার টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি। বিক্ষোভকারীরা এই সময় ভারতীয় কনস্যুলেটগুলো বন্ধ করার দাবি জানাবেন।
**ভারতীয় দূতাবাসগুলো ‘র’-এর কেন্দ্র: পান্নুন**
গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নুন তার ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন, “শিখস ফর জাস্টিস বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের গুপ্তহত্যার পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে যাচ্ছে। ভারত ইতোমধ্যেই ওসমান হাদিকে হত্যা করেছে। আমরা কর্মসূচি হিসেবে ভারতীয় দূতাবাসগুলো বন্ধ করে দেওয়ার ডাক দিয়েছি, কারণ এগুলোকে আমরা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’র কেন্দ্র বলে মনে করি। এখান থেকেই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হয়।”
এই শিখ নেতা আরও বলেন, “একইভাবে আমরা ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে দায়ী করছি। তিনিই ওসমান হাদিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন, হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছেন। এই দূতাবাস থেকেই হত্যাকাণ্ড, গুপ্তচরবৃত্তি ও নজরদারির কার্যক্রম পরিচালিত হয়।”
এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মহলে এর কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হয় এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসে কিনা, তা এখন দেখার বিষয়। তবে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে এই নতুন দাবি নিঃসন্দেহে গভীর আলোচনার জন্ম দেবে এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মহল থেকে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।



