## ইশতেহার ঘোষণা করলেন তাসনিম জারা: “সেবা না দিলে বিল নেই” – নতুন দিগন্তের উন্মোচন!
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা। সম্প্রতি তিনি তার ইশতেহার ঘোষণা করেছেন, যেখানে নাগরিকদের মৌলিক সমস্যা সমাধানের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে একাধিক যুগান্তকারী প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন। তার ইশতেহারের মূল আকর্ষণ হচ্ছে “No Service, No Bill” (সেবা না দিলে বিল নেই) নীতি প্রবর্তনের অঙ্গীকার, যা ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
**”সেবা না দিলে বিল নেই” – জবাবদিহিতার নতুন মডেল**
ডা. জারার ইশতেহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘No Service, No Bill’ বা ‘সেবা না দিলে বিল নেই’ নীতি প্রবর্তনের প্রস্তাব। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, সংসদে তার প্রথম কাজই হবে এই যুগান্তকারী নীতিটি আইন হিসেবে প্রবর্তন করা। এই প্রস্তাবনাটির মর্মার্থ হলো, সেবাদানকারী সংস্থাগুলো যদি সঠিকভাবে সেবা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে গ্রাহকদের কাছ থেকে তার জন্য কোনো বিল আদায় করা যাবে না।
বিশেষ করে, তিনি গ্যাসের সমস্যার উপর জোর দিয়েছেন। ডা. জারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, যদি গ্রাহকরা তাদের বাসাবাড়িতে পর্যাপ্ত গ্যাস না পান, তবে তাদের মাসিক বিল মওকুফ করার জন্য তিনি জোরালো দাবি তুলবেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস না থাকা সত্ত্বেও মাস শেষে পূর্ণাঙ্গ বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন অসংখ্য গ্রাহক। ডা. জারার এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে সেবাদানকারী সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে আরও বেশি সতর্ক হবে এবং গ্রাহক সেবার মান উন্নত হবে।
**গ্যাস ও জলাবদ্ধতা: স্থায়ী সমাধানের অঙ্গীকার**
ডা. জারা শুধু বিল মওকুফের কথাই বলেননি, তিনি গ্যাস ও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানেরও অঙ্গীকার করেছেন। দেশের শহরাঞ্চলে, বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে গ্যাস সংকট এবং সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা এক নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাগরিকদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে এই দুটি সমস্যা।
এই প্রসঙ্গে ডা. জারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, **‘আমরা প্রতি মাসে গ্যাসের বিল দিচ্ছি, অথচ চুলা জ্বালালে বাতাস বের হয়। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।’** তার এই কথা দেশের অসংখ্য গ্যাস ব্যবহারকারীর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং বঞ্চনার প্রতিচ্ছবি। মাসের পর মাস গ্যাসের বিল দিয়েও যখন রান্নাবান্নার মতো অতি প্রয়োজনীয় কাজ করা সম্ভব হয় না, তখন তা জনজীবনে চরম হতাশার সৃষ্টি করে। ডা. জারা এই প্রতারণার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এবং এই দুটি সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
**কেন এই ইশতেহার গুরুত্বপূর্ণ?**
ডা. তাসনিম জারার ইশতেহার কেবল কিছু প্রতিশ্রুতি নয়, এটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় একটি দৃঢ় পদক্ষেপ। সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ যেন সেবার বিনিময়েই ব্যয় হয়, সেই দিকটি তিনি স্পষ্ট করেছেন। তার এই সাহসী অঙ্গীকার, বিশেষ করে ‘No Service, No Bill’ নীতি, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি নতুন ধারা তৈরি করতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, ডা. জারার এই দূরদর্শী ইশতেহার কীভাবে বাস্তবে রূপ নেয় এবং কত দ্রুত নাগরিকরা এর সুফল ভোগ করেন। তবে এটুকু বলা যায়, তার এই ঘোষণায় দেশের সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে তাদের সেবার মান উন্নত করার জন্য।



