## সরবরাহ বাড়লেও দাম সহনীয় নয় শীতকালীন সবজির: মিশ্র বাজার চিত্রে ক্রেতাদের আক্ষেপ
শীতকাল মানেই টাটকা শাক-সবজির উৎসব। বাজারে এখন ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, লাউ, টমেটোসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজির জোগান বেড়েছে। কিন্তু এবারের শীতে সবজির বাজার কি সত্যিই উৎসবের আমেজ দিতে পারছে সাধারণ ক্রেতাদের? রাজধানীর বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম এখনো বেশিরভাগ ক্রেতার নাগালের বাইরে বলে আক্ষেপ করছেন তারা।
**সবজি বাজারে স্বস্তি এলেও তা যথেষ্ট নয়**
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানীর নিউ মার্কেটসহ অন্যান্য কাঁচাবাজারগুলোতে শীতের সবজির জোগান চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। তাদের দাবি, সরবরাহ বাড়ার কারণেই এই দাম কমা সম্ভব হয়েছে।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি, শীতের এ সময়ে মৌসুমী সবজির দাম অন্য বছরের তুলনায় এখনো অনেক বেশি। যে স্বস্তি আসার কথা, তা এখনো আসেনি। একটি মাঝারি আকারের ফুলকপি বা বাঁধাকপি এখনো ৫০-৬০ টাকা, শিমের কেজি ৮০-১০০ টাকা, যা সাধারণ ক্রেতাদের কাছে সহনীয় নয়। এই সময়ে সবজির দাম আরও কমার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না বলে তাদের আক্ষেপ।
**পেঁয়াজের অপেক্ষায় বিক্রেতারা, আদা-রসুন সহনীয়**
সবজির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের বাজার চিত্রও মিশ্র। পেঁয়াজের দামে সুখবর নেই বললেই চলে। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় পেঁয়াজ এখনো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে বিক্রেতারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ‘মুড়িকাটা পেঁয়াজ’-এর জন্য, যা বাজারে এলেই দাম কিছুটা কমতে পারে বলে তাদের প্রত্যাশা। অন্যদিকে, আদা ও রসুনের দাম তুলনামূলক সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে, যা ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনেছে।
**মাছ ও মাংসের বাজার স্থিতিশীল**
প্রোটিনের উৎস মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। মাছের দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই স্বস্তির কথা জানিয়েছেন। ইলিশের দাম কিছুটা বেশি থাকলেও অন্যান্য দেশীয় মাছের পর্যাপ্ত জোগান ও দাম তুলনামূলক হাতের নাগালে। ব্রয়লার, লেয়ার ও সোনালী মুরগির দাম এবং ডিমের দামেও কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি, যা ক্রেতাদের জন্য ইতিবাচক।
**চালের দামে কিছুটা স্বস্তি**
খাবারের প্রধান অনুষঙ্গ চালের বাজারেও দেখা গেছে মিশ্র চিত্র। যদিও নতুন চাল এখনো বাজারে আসেনি, তবে মোটা চালের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। অনেক ক্রেতাই বলছেন, মোটা চালের দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক। তবে সরু চালের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও দামের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের মনে এখনো পুরো মাত্রায় স্বস্তি ফেরেনি। শীতের হিমেল হাওয়ায় টাটকা সবজির স্বাদ নিতে গিয়ে এখনো অনেকেই হিমশিম খাচ্ছেন চড়া দামের কারণে। বাজার পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন, নতুন ফসলের সরবরাহ আরও বাড়লে এবং প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে আসবে। ততদিন পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই মিশ্র বাজার পরিস্থিতির সঙ্গেই মানিয়ে চলতে হবে।



