সংকটাপন্ন মা, দেশে আসা নিয়ে যা জানালেন তারেক রহমান**
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (সিসিইউ) রাখা হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তাকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। এমন একটি নাজুক পরিস্থিতিতে শুধু বিএনপি নেতাকর্মী নয়, দেশজুড়েই এক গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
**মা’কে ঘিরে উৎকণ্ঠা, ছেলের ফেরার আকাঙ্ক্ষা**
বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। চিকিৎসকরা তার শারীরিক জটিলতাগুলো সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন সংকটকালে নেতাকর্মীদের মনে বারবার একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে – বেগম জিয়ার একমাত্র পুত্র এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কি এই মুহূর্তে দেশে ফিরবেন?
দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থানরত তারেক রহমান মায়ের এমন অবস্থায় পাশে এসে দাঁড়াবেন, এমনটা বহু নেতাকর্মীরই একান্ত আকাঙ্ক্ষা। দলের একটি বড় অংশ মনে করে, মায়ের এই সংকটকালে তারেক রহমানের উপস্থিতি শুধু পারিবারিক বন্ধনেরই প্রকাশ হবে না, বরং দলের নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করবে এবং তাদের মধ্যে নতুন করে সাহস যোগাবে। একই সাথে, একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও এমন মুহূর্তে দেশে ফিরে মায়ের পাশে থাকাটা নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন অনেকে।
**বাস্তবতা তুলে ধরলেন তারেক রহমান**
তবে, সবার এই আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়েও তারেক রহমান দেশে ফেরার বিষয়ে একটি নতুন বার্তা দিয়েছেন। তিনি বাস্তবতা তুলে ধরে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে তার পক্ষে দেশে ফেরা সম্ভব নয়। একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এবং রাজনৈতিক নির্বাসনে থাকা তারেক রহমানকে দেশে ফিরলে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে, যা তাকে সরাসরি গ্রেপ্তার ও কারাবন্দী হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান নেতাকর্মীদের আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করেছেন। তিনি সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার এবং বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন। লন্ডনে বসেই তিনি মায়ের চিকিৎসার খোঁজখবর রাখছেন এবং দলের কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
**নেতাকর্মীদের উপলব্ধি ও চলমান সংগ্রাম**
তারেক রহমানের এই বার্তা একদিকে যেমন নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের বাস্তবতা উপলব্ধি এনেছে, অন্যদিকে মায়ের এমন সংকটকালে পাশে থাকতে না পারার বেদনাকেও তীব্র করেছে। তবে, তারা তারেক রহমানের অবস্থানকে বুঝতে পারছেন এবং এই মুহূর্তে দলের সবচেয়ে বড় কাজ হলো বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জোরালো করা।
সব মিলিয়ে, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নেতাকর্মীরা একদিকে মায়ের সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন, অন্যদিকে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার জন্য তারেক রহমানের বার্তার ওপর নির্ভর করছেন। সংকটের এই মুহূর্তে দেশবাসী বেগম জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে।
—



