*শেরপুর, ২৯ জানুয়ারি:** শেরপুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় নিহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের জানাজায় আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে মানুষের ঢল নেমেছে। শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এই প্রথম জানাজায় অংশ নিতে ঝিনাইগাতি ও শ্রীবরদী উপজেলা থেকে হাজার হাজার জনতা উপস্থিত হন। নিহত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসা শোকাহত মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
**কানায় কানায় পূর্ণ জানাজার মাঠ**
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা রেজাউল করিমের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো শেরপুর জুড়ে এক শোকাবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠ পরিণত হয়েছিল এক বিশাল জনসমুদ্রে। প্রথম জানাজা শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে শোকাহত জনতা দলে দলে আসতে শুরু করেন। একজন পরিচিত ও জনপ্রিয় নেতার এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ধর্মপ্রাণ মানুষ নীরবে তাদের প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছিলেন।
**ময়নাতদন্ত ও দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাফন**
জানা গেছে, জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে আজ শ্রীবরদীতে নিয়ে আসা হয়। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনগণ অধীর আগ্রহে তার মরদেহ ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন। প্রথম জানাজার পর রাত আটটায় গোপালখিলায় তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে, যা শোকাহত পরিবার ও স্বজনদের জন্য এক কঠিন মুহূর্ত।
**ওসি ও ইউএনও প্রত্যাহার, মোতায়েন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী**
এদিকে, শেরপুরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ওসি ও ইউএনওকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা প্রশাসনের উপর একরকম চাপের ইঙ্গিত দেয়। তবে, জামায়াত নেতার নিহতের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি, যা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলার ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছে এবং পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এই মোতায়েন ইঙ্গিত দেয় যে, কর্তৃপক্ষ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে।
মাওলানা রেজাউল করিমের মৃত্যু এবং এর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ শেরপুরে এক থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার দাবি করছেন নিহত নেতার সমর্থক ও পরিবারবর্গ। সাধারণ মানুষও তাকিয়ে আছে, দ্রুত এই ঘটনার সঠিক বিচার হবে এবং এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে।



