আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এরই মধ্যে সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই ও শাল্লা) ঘটে গেল এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক ঘটনা। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, এতে আহত হয়েছেন দুজন। এই ঘটনা নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
**ঘটনার বিস্তারিত:**
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে দিরাই উপজেলার কাদিরপুর এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে একটি প্রচার গাড়ি নিয়ে কাদিরপুর এলাকা অতিক্রম করার সময় একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা গাড়িটির ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং প্রচার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ওপর আক্রমণ চালায়।
**অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ:**
এই হামলার জন্য জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনির সরাসরি বিএনপির লোকজনকে দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি শান্তিপূর্ণ প্রচারণায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালিয়ে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে বিঘ্নিত করছে।
অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিএনপি। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ রকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি এবং এটি একটি সাজানো ঘটনা হতে পারে। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
**আহতদের অবস্থা:**
এই হামলার ঘটনায় দুজন কর্মী আহত হয়েছেন। তারা হলেন সেলিম (২৮) এবং জয় (২০)। আহত সেলিমকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। জয় প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করে বাড়িতে ফিরেছেন। এই হামলায় আহতদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তাদের পরিবার ও দলের কর্মীরা উদ্বিগ্ন।
**জনমনে উদ্বেগ:**
নির্বাচনকে ঘিরে এমন সহিংস ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। আশা করা যায়, কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং আগামী দিনগুলোতে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত হয়।



