## লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও শিশু মৃত্যু; থানায় মামলা
লক্ষ্মীপুর থেকে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক খবর। ভবানীগঞ্জের চরমনসা এলাকায় এক স্থানীয় বিএনপি নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এক নিষ্পাপ শিশুর করুন মৃত্যু এবং দেরিতে হলেও এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনা পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে এবং জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, ঘটনার চার দিন পর মামলা হলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে জড়িতরা।
**ঘটনার বিস্তারিত:**
জানা যায়, গত [তারিখ উল্লেখ না থাকায় ‘সম্প্রতি’ ব্যবহার করা যেতে পারে] রাতে একদল দুর্বৃত্ত লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জের চরমনসা এলাকার স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য সানাউল্লাহর বাড়িতে হামলা চালায়। অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীরা ঘরের বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে পুরো ঘর।
ভয়াবহ এই অগ্নিসংযোগে ঘরের ভেতরে আটকে পড়া সানাউল্লাহর পুত্রবধূ তাসলিমা বেগমের তিন বছর বয়সী শিশু রুহি মর্মান্তিকভাবে পুড়ে মারা যায়। ঘরের মধ্যে একটি শিশুকে তালাবদ্ধ করে রেখে অগ্নিসংযোগের এই অমানবিক ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, শিশুটিকে বাঁচানোর কোনো সুযোগই ছিল না। ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই পুরো ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
**৪ দিন পর মামলা, এখনও কেউ গ্রেফতার নেই:**
এমন লোমহর্ষক ঘটনার পরও মামলা দায়ের করতে চার দিন লেগে যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিহত শিশু রুহির মা তাসলিমা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে মামলা দায়ের হলেও, পুলিশ এখনও পর্যন্ত এই জঘন্যতম ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা ঘটনা তদন্ত করছেন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
**জনগণের প্রত্যাশা:**
একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। সাধারণ মানুষ আশা করে, পুলিশ প্রশাসন দ্রুততার সাথে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করবে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবার নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।
আমরা আশা করি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা মূল হোতারা দ্রুত আইনের মুখোমুখি হবে এবং বিচার নিশ্চিত হবে।



