গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের অবাধ ও স্বতঃস্ফূর্ত ভোটাধিকার। কিন্তু যখন এই পবিত্র অধিকারকে টাকা দিয়ে কিনতে চাওয়া হয়, তখন গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত হানা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য সাদিক কায়েম জোর দিয়ে বলেছেন, **”যারা টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চায় দেশে তাদের ঠাঁই হবে না।”** তার এই বজ্রকঠিন ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা সৎ ও নীতিবান রাজনীতির দাবিদারদের জন্য আশার আলো।
**ভোট কেনাবেচার জঘন্য অপসংস্কৃতি**
ভোট কেনাবেচা কেবল একটি অনৈতিক কাজ নয়, এটি একটি জঘন্য অপরাধ। এটি জনগণের রায়কে বিকৃত করে, মেধাহীন ও অযোগ্য নেতৃত্বকে ক্ষমতায় বসায় এবং একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার জন্ম দেয়। যখন একজন জনপ্রতিনিধি টাকার জোরে নির্বাচিত হন, তখন তিনি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ না থেকে সেই গোষ্ঠীর প্রতি অনুগত থাকেন যারা তাকে ক্ষমতায় আনতে অর্থ ব্যয় করেছে। এর ফলে সুশাসন ব্যাহত হয়, ন্যায়বিচার ভূলুণ্ঠিত হয় এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন থমকে যায়। এই অপসংস্কৃতি ধীরে ধীরে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়ে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হয়।
**সাদিক কায়েম, ছাত্রশিবির ও জামায়াতের আদর্শিক অবস্থান**
সাদিক কায়েমের এই বলিষ্ঠ উচ্চারণ ছাত্রশিবিরের আদর্শিক অবস্থানেরই প্রতিফলন। ছাত্রশিবির শুরু থেকেই একটি নীতি ও আদর্শভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির চর্চা করে আসছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব তৈরি করা, যারা নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য কাজ করবে। দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার হিসেবে ছাত্রশিবির মনে করে, তরুণ প্রজন্মকে অবশ্যই দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি ও দেশপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত হতে হবে।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল হিসেবে সবসময়ই জনগণের ন্যায্য অধিকার ও নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাজনীতি পরিচালনার কথা বলে। তারা সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার ও সততা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে। অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার মতো অপসংস্কৃতিকে তারা সবসময়ই ঘৃণা করে এবং এর বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকে। সাদিক কায়েমের এই বক্তব্য মূলত জামায়াতের সেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দর্শনকেই আবারও সামনে এনেছে, যেখানে বলা হয়েছে, ক্ষমতার মসনদ অর্থের জোরে নয়, জনগণের ভালোবাসা ও সততার ভিত্তিতে অর্জিত হতে হবে।
**আগামীর বাংলাদেশ ও তরুণ সমাজের ভূমিকা**
দেশের ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মের হাতে। সাদিক কায়েমের এই আহ্বান মূলত তরুণ সমাজকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা যোগায়। তরুণদের উচিত ভোট কেনার প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করা এবং যারা এমন ঘৃণ্য কাজ করে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা। একটি পরিচ্ছন্ন নির্বাচন ব্যবস্থা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে হলে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। প্রতিটি নাগরিককে তাদের ভোটাধিকারের পবিত্রতা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং এমন কোনো প্রলোভনে পা দেওয়া যাবে না যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর।
যারা নীতি ও আদর্শকে পদদলিত করে টাকার জোরে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চায়, তাদের এই পবিত্র ভূমিতে কোনো স্থান থাকতে পারে না। বাংলাদেশের মাটি থেকে ভোট কেনাবেচার এই জঘন্য প্রথাকে নির্মূল করতে হলে ছাত্রসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
সাদিক কায়েমের **’যারা টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চায় দেশে তাদের ঠাঁই হবে না’** – এই স্লোগান শুধু একটি বাক্য নয়, এটি একটি প্রতিজ্ঞা। এটি একটি দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষিত থাকে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যেন অর্থ দিয়ে মানুষের বিবেক কেনার এই অপচেষ্টা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় এবং দেশ সত্যিকার অর্থেই মেধা ও সততার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
—



