## মঞ্চ থেকে নেমে কাঁদলেন মিথিলা: গর্ব, চাপ আর এক অদেখা লড়াই!
মিস ইউনিভার্স মঞ্চ মানেই ঝলমলে আলো, চোখ ধাঁধানো পোশাক আর আত্মবিশ্বাসী প্রতিযোগীদের দৃঢ় পদচারণা। কিন্তু এই ঝলমলের আড়ালে চাপা পড়ে থাকে অগাধ পরিশ্রম, গভীর আত্মবিশ্বাস আর এক অন্যরকম চাপ – নিজের দেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার গুরুভার। আর সেই চাপ, সেই পরিশ্রম আর দেশের প্রতিনিধিত্ব করার গুরুভারই হয়তো আজ চোখে জল এনেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি তানজিয়া জামান মিথিলার। জামদানি শাড়িতে বিশ্বমঞ্চে সবার নজর কেড়েছিলেন তিনি, কিন্তু মঞ্চ থেকে নামতেই তার চোখ ভিজে উঠলো কেন? চলুন জেনে নিই এই আবেগের পেছনের গল্প।
**জমকালো জামদানি: বাংলাদেশের অহংকার বিশ্বমঞ্চে**
থাইল্যান্ডে চলছে মিস ইউনিভার্স ২০২৫-এর ৭৪তম আসর, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন আমাদের সকলের প্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা। প্রথম দিন থেকেই আলোচনা বাংলাদেশ আর তার প্রতিনিধি মিথিলাকে নিয়ে। বিশেষ করে তার ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ির লুকটি মুগ্ধ করেছে বিশ্ববাসীকে। ঝলমলে আলোর নিচে দাঁড়িয়ে তিনি শুধু একটি পোশাক পরিধান করেননি, বরং বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর আভিজাত্যকে তুলে ধরেছেন অসাধারণ ভঙ্গিমায়। এটি শুধুই একটি পোশাক ছিল না, এটি ছিল বাংলাদেশের হৃদয়, ঐতিহ্য আর অহংকার, যা তিনি বিশ্ববাসীর সামনে মেলে ধরেছেন অত্যন্ত সফলভাবে।
**’পিপলস চয়েস’-এ অপ্রতিরোধ্য মিথিলা**
শুধু পোশাকের জাদু নয়, মিথিলা তার ব্যক্তিত্ব আর আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছেন প্রতিযোগীদের মাঝে। ‘পিপলস চয়েস’ বিভাগে কখনো তিনি প্রথম, কখনো দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছেন, যা প্রমাণ করে বিশ্বজুড়ে তার প্রতি মানুষের সমর্থন কতখানি। বিশ্বব্যাপী ১২১টি দেশের প্রতিযোগীর ভিড়ে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করা সহজ কাজ নয়, কিন্তু মিথিলা সেই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে গ্রহণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তার এই প্রচেষ্টাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসা।
**ন্যাশনাল কস্টিউম: আবারও নজর কাড়লেন মিথিলা**
গত ১৯ নভেম্বর ছিল মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্ব – ন্যাশনাল কস্টিউম রাউন্ড। এই দিনে প্রতিটি প্রতিযোগী নিজ দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে মঞ্চে হেঁটেছেন। মিথিলাও তার বিশেষ ন্যাশনাল কস্টিউম পরে মঞ্চে এসেছিলেন এবং তার ঝলমলে উপস্থিতি আবারও সবার নজর কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা তার ন্যাশনাল কস্টিউম লুকের ছবিগুলো ইতিমধ্যেই ভাইরাল।
**চোখের জল: গর্ব, আনন্দ নাকি অদেখা লড়াইয়ের ফল?**
কিন্তু এই সব সাফল্যের পরও, মঞ্চ থেকে নেমে আসার পর মিথিলার চোখে কেন জল? এটি সম্ভবত আনন্দের অশ্রু, এক অন্যরকম আবেগের বহিঃপ্রকাশ। নিজের কাঁধে পুরো একটি দেশকে বহন করার চাপ, কোটি মানুষের প্রত্যাশার ভার, আর বিশ্বের সামনে নিজের দেশের সংস্কৃতিকে সফলভাবে তুলে ধরার গভীর অনুভূতি – এই সবকিছুই হয়তো তাকে আবেগাপ্লুত করে তুলেছে। কঠোর পরিশ্রম, নিদ্রাহীন রাত আর অন্তহীন প্রস্তুতি – এর ফল যখন চোখের সামনে ধরা দেয়, তখন এমন আবেগী মুহূর্ত আসাটা অস্বাভাবিক নয়। দেশের জন্য কিছু করতে পারার গর্ব, আর লক্ষ লক্ষ মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনই হয়তো তার চোখকে সিক্ত করেছে।
আগামী ২১ নভেম্বর জানা যাবে, কার মাথায় উঠতে যাচ্ছে ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৫’-এর মুকুট। ফল যাই হোক না কেন, তানজিয়া জামান মিথিলা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, বাংলাদেশের মেয়েরাও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের যোগ্যতা ও স্বকীয়তার প্রমাণ রাখতে পারে। আমাদের সবার উচিত এই লড়াকু তরুণীকে সমর্থন জানানো এবং তার এই যাত্রায় পাশে থাকা।



