এখানে আপনার অনুরোধ অনুযায়ী ব্লগ পোস্টটি দেওয়া হলো:
—
## ভোটের আগেই অবৈধ্য অস্ত্রের ঝনঝনানি, আতঙ্ক বাড়ছে জনমনে
নির্বাচনের ডামাডোলের আবহেই দেশজুড়ে অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে ভোটের আগে এই অস্ত্রের ঝনঝনানি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যা দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
গত বছরের শেষ দিকে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। রাজধানীর বিমানবন্দর স্টেশনে এক বিশেষ অভিযান চালায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে উদ্ধার করা হয় ৮টি বিদেশি পিস্তল, ১৬টি ম্যাগাজিন, ২৬ রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য। ধারণা করা হয়েছিল, এসব অস্ত্রের গন্তব্য ছিল রাজধানী ঢাকা, যা কোনো বড় নাশকতার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। এই ঘটনা স্পষ্ট করে তোলে যে, দেশের ভেতর অবৈধ অস্ত্রের মজুত ও পরিবহন কতটা ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে।
এর রেশ কাটতে না কাটতেই, অবৈধ অস্ত্রের আনাগোনা আবারও সংবাদের শিরোনামে এসেছে। সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের মনোহরপুর সীমান্তে বিশেষ অভিযানে আটক হয় ৪টি পিস্তল, ৯টি ম্যাগাজিন ও ২৪ রাউন্ড গুলি। এ ধরনের ঘটনা এখন বিচ্ছিন্ন নয়, বরং প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। নৌবাহিনীর অভিযানেও নিয়মিত বিরতিতে জব্দ হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অবৈধ অস্ত্রের একটি বড় অংশ আসে প্রতিবেশী মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে। একাধিক রুট ব্যবহার করে এসব অস্ত্র দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। এর পেছনে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশি পিস্তল ও বিস্ফোরকের উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, বড় ধরনের সহিংসতার পরিকল্পনা থাকতে পারে।
অবৈধ অস্ত্রের এই ঝনঝনানি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচনকে ঘিরে যদি সন্ত্রাস ও সহিংসতা বৃদ্ধি পায়, তবে তা শুধু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেই বাধাগ্রস্ত করবে না, বরং জনজীবনেও নেমে আসবে চরম অস্থিরতা। জানমালের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে।
অবস্থা যেদিকে যাচ্ছে, তাতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর তৎপরতা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তবে এই চোরাচালান বন্ধে আরও জোরালো অভিযান এবং সীমান্ত এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। একই সাথে, জনগণকে সচেতন করে অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলারও প্রয়োজন রয়েছে। একটি শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন নির্বাচন এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা আমাদের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।
—



