পাকিস্তানের পাকিস্তান–এর বিচার ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত একটি ঘটনা হলো ইসলামাবাদ হাইকোর্টের সাবেক বিচারক তারিক মাহমুদ জাহাঙ্গীরি–এর ভুয়া আইন ডিগ্রি সংক্রান্ত অভিযোগ। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর আদালত তার নিয়োগ বাতিল করে এবং ঘোষণা করে যে তার আইন ডিগ্রি শুরু থেকেই অবৈধ ছিল। এই সিদ্ধান্ত দেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট–এর একটি ডিভিশন বেঞ্চ, যেখানে প্রধান বিচারপতি সরদার মুহাম্মদ সরফরাজ ডোগার এবং বিচারপতি মুহাম্মদ আজম খান ছিলেন। প্রায় ১১৬ পৃষ্ঠার রায়ে বলা হয়, জাহাঙ্গীরির শিক্ষাগত নথিপত্রে গুরুতর জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয় যে, জাহাঙ্গীরি ১৯৮৮ সালে ভুয়া এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে এলএলবি পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে অসদুপায়ের কারণে তিনি ধরা পড়েন এবং ১৯৮৯ সালে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিন বছরের জন্য বহিষ্কৃত হন। কিন্তু তিনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১৯৯০ সালে আবার পরীক্ষায় অংশ নেন এবং তখন নিজের নাম পরিবর্তন করে “তারিক জাহাঙ্গীরি” ব্যবহার করেন, পাশাপাশি অন্য ছাত্র ইমতিয়াজ আহমদ–এর এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এলএলবি দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষায় তিনি নিজের নাম ব্যবহার করলেও ভিন্ন একটি এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী অসম্ভব বলে আদালত উল্লেখ করে।
তদন্তে আরও জানা যায় যে, গভর্নমেন্ট ইসলামিয়া ল কলেজ কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায় যে জাহাঙ্গীরি ওই প্রতিষ্ঠানে কখনো ভর্তি ছিলেন না। বিচার চলাকালে তার আচরণ নিয়েও সমালোচনা করা হয়, কারণ বারবার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনো মূল নথিপত্র বা লিখিত জবাব জমা দেননি। এসব কারণে আদালত তার শিক্ষাগত সনদকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং তার বিচারক পদ বাতিল করে দেয়।
এই ঘটনা পাকিস্তান–এর বিচার বিভাগের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও যাচাই–বাছাই ব্যবস্থার দুর্বলতাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিচার বিভাগে নিয়োগের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সনদের কঠোর যাচাই করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি এড়ানো যায়



