স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক–এ মোট ১৪ জন গভর্নর নিয়োগ পেয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন প্রশাসনিক ক্যাডার বা আমলা পেশার সঙ্গে যুক্ত। দেশের প্রথম গভর্নর আ ন ম হামিদুল্লাহ (১৯৭২–৭৪) ছিলেন একজন ব্যাংকার, যিনি গভর্নর হওয়ার আগে পাকিস্তানের ইস্টার্ন ব্যাংকিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, যা বর্তমানে উত্তরা ব্যাংক নামে পরিচিত। দ্বিতীয় গভর্নর এ কে নাজিরউদ্দীন আহমেদ (১৯৭৪–৭৬) ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং সোনালী ব্যাংক–এর মতো প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)–এও কাজ করেছিলেন। দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় গভর্নর ছিলেন তৃতীয় গভর্নর এম নূরুল ইসলাম, যিনি ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত টানা ১১ বছর দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি ছিলেন প্রথম আমলা পটভূমির গভর্নর। পরবর্তী সময়ে চতুর্থ গভর্নর শেগুফ্তা বখ্ত চৌধুরী (১৯৮৭–৯২) কর ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন এবং পঞ্চম গভর্নর এম খোরশেদ আলম (১৯৯২–৯৬) সিএসপি কর্মকর্তা ছিলেন। ষষ্ঠ গভর্নর লুৎফর রহমান সরকার (১৯৯৬–৯৮) ব্যাংকিং পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী গভর্নরদের মধ্যে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, ফখরুদ্দীন আহমদ এবং সালেহউদ্দিন আহমেদ অর্থনীতি ও শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দশম গভর্নর ড. আতিউর রহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষক। একাদশ গভর্নর ফজলে কবির এবং দ্বাদশ গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার প্রশাসনিক ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। সর্বশেষ ত্রয়োদশ গভর্নর আহসান এইচ মনসুর নিয়োগ পাওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল ৭২ বছরের বেশি এবং তাঁর নিয়োগের জন্য বয়সসীমা সংক্রান্ত বিধিমালাও সংশোধন করা হয়। সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রাধান্য থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকিং, অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক পটভূমির ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে।



