## ‘সুখবর’ পেলেন বিএনপির ৬৫ নেতা
সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক ঘোষণা এসেছে, যা দলটির ৬৫ জন নেতা-কর্মীর জন্য বয়ে এনেছে এক আনন্দের বার্তা। যারা একসময় দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন, এবার তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দলটির মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই ঘোষণা দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে, যা নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা করবে।
প্রসঙ্গত, ইতঃপূর্বে এই নেতৃবৃন্দকে ‘সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডের’ দায়ে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বিভিন্ন সময় দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবং সম্ভবত তাদের অনুশোচনা ও দলের প্রতি আনুগত্যের ফলস্বরূপ, দলটি তাদের প্রতি নমনীয় হয়েছে এবং পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যেসকল নেতৃবৃন্দের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন:
* কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ইন্দোনেশিয়া সিটু
* নরসিংদীর আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. আব্দুর কাইয়ুম সরকার
* সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল্লাহ আল-মামুন
* ধর্মপাশা উপজেলার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কামাল
* ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মোহন মিয়া বাচ্চু
* মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দেলওয়ার হোসেন
* হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. আব্দুল আলীম ইয়াছিনী
* নবীগঞ্জ উপজেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান চৌধুরী
* ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অরুয়াইল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ইয়াকুব
* সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক মো. আব্দুর রকিব তুহিন
* রাজশাহীর বাঘা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. কামাল হোসেন
* একই উপজেলার সাবেক সদস্য ফারহানা দিল আফরোজ রুমি
* এবং গাজীপুর কৃষকদলের আহ্বায়ক এস এম আবুল কালাম আজাদ।
এদেরসহ মোট ৬৫ জন নেতার সদস্যপদ ও পদমর্যাদা পুনর্বহাল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি একদিকে যেমন দলের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বাড়াতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে কর্মীদের মনোবলকেও চাঙা করবে। আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য অপরিহার্য। এই পুনর্বহাল প্রক্রিয়া সেই লক্ষ্যের দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
সব মিলিয়ে, বিএনপির ৬৫ জন নেতার ‘সুখবর’ পাওয়ার এই ঘটনা দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি ভবিষ্যতে দলটির সাংগঠনিক শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা যায়।



