প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তানের স্পিকার ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ: এক সক্রিয় কূটনৈতিক দিন**
গতকাল বুধবার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সাক্ষী হলো গুরুত্বপূর্ণ দুটি কূটনৈতিক সাক্ষাতের। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেছেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা। দুটি সাক্ষাৎকারই অনুষ্ঠিত হয় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, যা আঞ্চলিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত বহন করে।
**পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ**
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক গতকাল ঢাকায় এসে সরাসরি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকটি ছিল দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন, সংসদীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তান বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার, এবং এই ধরনের উচ্চ-পর্যায়ের সাক্ষাৎ দুই দেশের মধ্যে বোঝাপড়া ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। সংসদীয় প্রতিনিধি দলের এই সফর দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করবে বলেও আশা করা যায়।
**নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ**
একই দিনে, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মাও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। নেপাল বাংলাদেশের অন্যতম নিকটতম প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেও দুই দেশের মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক বিদ্যমান, বিশেষ করে ট্রানজিট ও জ্বালানি খাতে।
এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতকরণ (বিশেষ করে নেপালের জন্য বাংলাদেশের বন্দর সুবিধা), পর্যটন উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। সার্ক, বিমসটেক-এর মতো আঞ্চলিক ফোরামে সদস্য হিসেবে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে, যা আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই সাক্ষাৎ আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ক্ষেত্রে একটি নতুন গতি দেবে বলে আশা করা যায়।
**বাংলাদেশের সক্রিয় কূটনীতির বহিঃপ্রকাশ**
একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ বাংলাদেশের সক্রিয় কূটনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটি প্রমাণ করে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে সচেষ্ট। এই ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই শক্তিশালী করে না, বরং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
**উপসংহার**
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আশা করা যায়, এই ফলপ্রসূ আলোচনাগুলোর ফলস্বরূপ পাকিস্তান ও নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার পথ আরও প্রশস্ত হবে। একটি দায়িত্বশীল ও সক্রিয় সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক উন্নয়নে তার ভূমিকা অব্যাহত রাখবে, এই প্রত্যাশা করা যায়।
—



