## পাবনায় বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, এমপি প্রার্থীসহ আহত অর্ধশতাধিক
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলসহ অন্তত অর্ধশতাধিক জামায়াত কর্মী আহত হয়েছেন।
**হামলার অভিযোগ ও জামায়াতের ভাষ্য:**
জানা গেছে, পাবনা-৪ আসনে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল তার নির্বাচনী এলাকা ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ায় গণসংযোগ চালাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বিএনপির কতিপয় সমর্থক অতর্কিতভাবে তাদের গাড়িবহরে হামলা চালায়। এই হামলায় গাড়িবহর ভাঙচুর করা হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা গুরুতর আহত হন।
আহতদের মধ্যে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল নিজেও রয়েছেন। তাকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। জামায়াত এই ঘটনাকে একটি পূর্বপরিকল্পিত ও কাপুরুষোচিত হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যার উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা এবং তাদের প্রার্থীকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া।
**বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার:**
অন্যদিকে, অভিযুক্ত বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার দলের নেতাকর্মীরা এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। হাবিবুর রহমান হাবিবের মতে, জামায়াতের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এই ঘটনা ঘটতে পারে, অথবা এটি অন্য কোনো পক্ষের সাজানো নাটক হতে পারে, যার মাধ্যমে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। তিনি নিজে শান্তি ও সহাবস্থানে বিশ্বাসী এবং কোনো ধরনের সহিংসতাকে সমর্থন করেন না বলেও জানান।
**নির্বাচনী পরিবেশে উদ্বেগ:**
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়া স্বাভাবিক হলেও, এমন সহিংসতা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। এই ঘটনা পাবনার নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুললো এবং সাধারণ ভোটারদের মনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এই পরিস্থিতিতে, উভয় দলের পক্ষ থেকে সংযম ও সহনশীলতার পরিচয় দেওয়া অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।



