নির্বাচনে সারাদেশ ৩ ভাগে বিভক্ত হবে: ইসি সচিব আখতার – গণতন্ত্রের সুরক্ষায় নতুন কৌশল
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইসি সচিব মো. আখতারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সারাদেশকে তিনটি ভিন্ন নিরাপত্তা ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে। এই কৌশলগত বিভাজন নির্বাচনের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
### কেন এই ৩ ভাগ?
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের সময় সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, বা অপ্রীতিকর ঘটনা নতুন কিছু নয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশন এবার শুরু থেকেই একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সারা দেশকে তিন ভাগে বিভক্ত করার মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রতিটি এলাকার সংবেদনশীলতা অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঠিক ও কার্যকর মোতায়েন নিশ্চিত করা।
**এই তিনটি ভাগ কী হতে পারে?**
যদিও ইসি সচিব বিস্তারিত ব্যাখা দেননি, তবে সাধারণত এমন বিভাজনের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়, তা হলো:
১. **অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র/এলাকা:** এই ক্যাটাগরিতে সেইসব কেন্দ্র বা এলাকা পড়বে যেখানে পূর্ববর্তী নির্বাচনের ইতিহাসে ব্যাপক সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, বা ভোটদানে বাধার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, স্থানীয় রাজনৈতিক সংঘাত, ভৌগোলিক জটিলতা বা বিশেষ কোনো পরিস্থিতিও এর কারণ হতে পারে।
২. **গুরুত্বপূর্ণ বা সাধারণের চেয়ে বেশি সংবেদনশীল কেন্দ্র/এলাকা:** এই কেন্দ্রগুলোতে ছোটখাটো ঝামেলা বা উত্তেজনা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকতে পারে, তবে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণের মতো নাও হতে পারে। এখানেও অতিরিক্ত সতর্কতার প্রয়োজন হয়।
৩. **সাধারণ কেন্দ্র/এলাকা:** যেসব কেন্দ্র বা এলাকায় সাধারণত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সম্ভাবনা কম থাকে, সেগুলোকে এই ভাগে রাখা হবে।
### বিভাজনের ভিত্তি ও উদ্দেশ্য
ইসি সচিবের এই ঘোষণা কেবল ধারণার উপর ভিত্তি করে নয়, বরং পূর্ববর্তী নির্বাচনের ইতিহাস, স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই বিভাজন করা হবে। এর প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো:
* **নিরাপত্তার সুষম বণ্টন:** যেখানে যেমন প্রয়োজন, তেমন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি থাকবে।
* **সম্পদের সঠিক ব্যবহার:** অপ্রয়োজনীয় জায়গায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন না করে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তাদের উপস্থিতি বাড়িয়ে সম্পদের অপচয় রোধ করা।
* **ভোটারদের আস্থা অর্জন:** ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন এবং তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।
* **অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ:** প্রার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে প্রচার কার্যক্রম চালাতে পারেন এবং নির্বাচনের দিন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে কঠোর নজর রাখা।
### ইসির দৃঢ় সংকল্প
ইসি সচিব আখতারের এই ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় সংকল্পের প্রকাশ। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে ইসি যে বদ্ধপরিকর, এই পদক্ষেপ তারই প্রমাণ। ইসি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করবে। আশা করা যায়, এই কৌশলগত পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং দেশবাসী একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যক্ষ করতে পারবে।
**উপসংহার:**
সামনে আসা এই তথ্যটি আসন্ন নির্বাচনকে আরও সুসংগঠিত ও নিরাপদ করার ইসি-র একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরে। দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। এখন দেখার বিষয়, এই কৌশল কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং দেশের আপামর জনগণ নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে কিনা।
—



