অবশেষে পূরণ হলো স্বপ্ন: মালয়েশিয়ায় পৌঁছালো আটকে পড়া কর্মীদের প্রথম ফ্লাইট!
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মালয়েশিয়ার মাটিতে পা রেখেছেন দেশের আটকে পড়া কর্মীরা। সকল বাধা পেরিয়ে তাদের মালয়েশিয়া আসার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, যা দেশের অভিবাসন খাতে নিয়ে এসেছে এক নতুন আশার আলো। মঙ্গলবার মধ্যরাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় প্রথম ধাপে ৬০ জন কর্মীর একটি ফ্লাইট।
**উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত কর্মীরা**
বাংলাদেশ বিমানের এই বিশেষ ফ্লাইটটি কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করতেই সেখানে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। কর্মীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী। তার নেতৃত্বে ডেপুটি হাইকমিশনার এবং লেবার কাউন্সিলরও কর্মীদের স্বাগত জানান। বিশেষ করে, যারা ২০২৪ সালের ৩১ মে’র মধ্যে মালয়েশিয়া পৌঁছাতে পারেননি, তাদের জন্য এই আগমন ছিল এক নতুন ভোরের বার্তা। বোয়েসেলের (BOESL) মাধ্যমে আসা এই কর্মীরা দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়ায় এসে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন।
**আন্তরিকতা ও সহযোগিতার ফসল**
মালয়েশিয়ায় পৌঁছে কর্মীরা বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারকে তাদের পাশে থাকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সাথে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ‘কন্সট্রাকশান লেবার এক্সচেঞ্জ সেন্টার বারহাদ-ক্লাব’ (CLAB) এর প্রধান নির্বাহী, যিনি কর্মীদের স্বাগত জানান এবং তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী তার বক্তব্যে দুই দেশের সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “দু’দেশের সরকারের আন্তরিকতায় এবং পারস্পরিক সহযোগিতায় সকল জটিলতা কাটিয়ে কর্মীরা আজ মালয়েশিয়া আসতে পেরেছে। এই সফলতার জন্য আমরা মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে উভয় দেশের সরকারই নিবিড়ভাবে কাজ করেছে।
**একজন কর্মীর ফেরত পাঠানো এবং ভবিষ্যতের সতর্কতা**
প্রথম ধাপে ৬০ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় এলেও একজন কর্মীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনা ভবিষ্যতে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় আরও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, যাতে কোনো কর্মীকেই এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়।
**আশার নতুন দিগন্ত**
এই সফল যাত্রা কেবল প্রথম ধাপ। আশা করা হচ্ছে, আটকে পড়া বাকি কর্মীরাও দ্রুত মালয়েশিয়া আসার সুযোগ পাবেন। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার। এই শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা ও কর্মীদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে দুই দেশই বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়ায় নতুন আসা কর্মীদের সুষ্ঠুভাবে কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পারা এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি সর্বদা নজর রাখবে। দেশের রেমিটেন্স যোদ্ধাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক আশার আলো এবং সফল অভিবাসনের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।



