## মতপার্থক্য থাকলেও যেন মতবিভেদ না হয়: তারেক রহমান
মানবসমাজ বৈচিত্র্যময়, আর এই বৈচিত্র্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মতপার্থক্য। পৃথিবীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মানুষে মানুষে চিন্তাভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং ধারণার ভিন্নতা ছিল এবং থাকবে। এটিই স্বাভাবিক। তবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এই মতপার্থক্যগুলো কি বিভেদ, সংঘাত ও দূরত্ব তৈরি করবে, নাকি গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুলে দেবে?
সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তায় বলেছেন, “মতপার্থক্য থাকলেও যেন মতবিভেদ না হয়।” তিনি এই মতপার্থক্যকে মতবিভেদে রূপ নিতে না দেওয়ার জন্য আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। তার এই আহ্বান কেবল একটি রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং এটি সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চা এবং একটি সহনশীল সমাজ গড়ার জন্য অপরিহার্য একটি দিকনির্দেশনা।
**মতপার্থক্য বনাম মতবিভেদ: পার্থক্য কোথায়?**
গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা। মতপার্থক্য বা ভিন্নমত নতুন ধারণা, বিশ্লেষণ ও সমাধানের জন্ম দেয়। এটি প্রগতিশীল সমাজের ভিত্তি। যখন বিভিন্ন মানুষ তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কোনো বিষয়কে দেখেন, তখন সমস্যার বহুমুখী সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। এটি সৃষ্টিশীলতাকে উৎসাহিত করে এবং সমাজকে একঘেয়েমি থেকে বাঁচায়।
কিন্তু যখন এই মতপার্থক্যগুলো একে অপরের প্রতি অসহিষ্ণুতা, ঘৃণা এবং বিভেদে রূপান্তরিত হয়, তখনই তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। মতবিভেদ মানে কেবল ভিন্নমত পোষণ করা নয়, বরং ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাহীনতা এবং আলোচনার পরিবর্তে সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া। এটি সামাজিক সম্পর্কগুলোকে দুর্বল করে, অবিশ্বাস তৈরি করে এবং জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করে।
তারেক রহমানের বার্তা এই গভীর সত্যটিকেই তুলে ধরেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, ভিন্নমত থাকাটা দোষের নয়, বরং ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে এটিকে সংঘাতের কারণ বানানোই হচ্ছে মূল সমস্যা।
**আলোচনাই সমাধানের পথ**
মতবিভেদ পরিহার করে আলোচনার টেবিলে বসার যে আহ্বান তারেক রহমান জানিয়েছেন, তা কেবল রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, বরং সমাজ জীবনের প্রতিটি স্তরেই প্রযোজ্য। পরিবার থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত – আলোচনার সংস্কৃতি মানুষকে কাছাকাছি আনে, সংঘাত এড়ায় এবং সম্মিলিত অগ্রগতির পথ প্রশস্ত করে।
বিশেষ করে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে, যেখানে রাজনৈতিক মেরুকরণ প্রায়শই গভীর হয়ে ওঠে, সেখানে এমন একটি আহ্বান অত্যন্ত সময়োপযোগী। জাতীয় স্বার্থে একমত হওয়ার জন্য, ভিন্ন মতাবলম্বীদের মধ্যেও আলোচনা ও বোঝাপড়ার একটি মঞ্চ থাকা জরুরি। খোলামেলা ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়, নতুন পথ বেরিয়ে আসে এবং সর্বোপরি, একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে সহায়তা করে।
আলোচনা কেবল ভিন্ন মতের সেতুবন্ধনই করে না, বরং এটি পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা এবং সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করে। যখন আমরা ধৈর্য সহকারে অন্যের কথা শুনি, তাদের যুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই, তখন মতপার্থক্য থাকলেও বিভেদ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
**জাতীয় ঐক্যের জন্য অপরিহার্য**
একটি জাতি তখনই সত্যিকারের অর্থে শক্তিশালী হয়, যখন তার জনগণ বিভিন্ন মত ও পথের অনুসারী হলেও একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে। রাজনৈতিক বিভেদ যখন ব্যক্তিগত বিদ্বেষে পরিণত হয়, তখন তা দেশ ও জাতির জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে আনে। তারেক রহমানের এই বার্তা একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়।
মতপার্থক্যকে ভয় না পেয়ে, বরং একে একটি দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে দেখা উচিত। সেই শক্তির সঠিক ব্যবহার তখনই সম্ভব, যখন আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্যগুলোকে সমাধান করা যায় এবং মতবিভেদের দেয়াল গড়ে উঠতে না দেওয়া যায়।
**উপসংহার**
তারেক রহমানের “মতপার্থক্য থাকলেও যেন মতবিভেদ না হয়” এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের এই আহ্বান একটি গভীর চিন্তার প্রতিফলন এবং সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অপরিহার্য। আসুন আমরা এই আহ্বানকে স্বাগত জানাই এবং মতপার্থক্যকে শক্তি হিসেবে দেখে, আলোচনার মাধ্যমে একটি সুন্দর, সহনশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে চলি। জাতি হিসেবে আমাদের ভবিষ্যৎ এর উপরেই নির্ভরশীল।



