## ঢাকায় বসে ভারতের ব্যবসায়ীদের কাঁদাচ্ছে ড. ইউনুস: পেঁয়াজের কূটনীতিতে নয়া বাঁক!
দীর্ঘদিন ধরেই এক অদ্ভুত অচলাবস্থার শিকার ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি খাত। দেশটির স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন তলানিতে, কৃষকরা মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। এত কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে যে উৎপাদন খরচও উঠছে না অনেকের। অথচ এই চিত্র দেখেও ভারতের সরকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখনো ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারছেন না এর কারণ। কী এমন ঘটলো যে একসময়ের নিশ্চিত রপ্তানি বাজার এখন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মূল কারণ লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের আত্মনির্ভরশীলতার স্বপ্নে। আর সেই স্বপ্নের কারিগরদের প্রেরণা যোগাচ্ছে আমাদের গর্ব, শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. ইউনুসের মতো ব্যক্তিরা – যারা বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে এক স্বাবলম্বী জাতি হিসেবে দেখতে চান।
**ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ**
একসময় ভারতের পেঁয়াজ মানেই ছিল বাংলাদেশের বাজারের ভরসা। ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়লে বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়তো, আবার দাম কমলে বাংলাদেশের ভোক্তা উপকৃত হতেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে পরিস্থিতি ভিন্ন। ভারতের পাইকারি বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকায় নেমে এলেও, রপ্তানি বাজার যেন স্থবির হয়ে পড়েছে। কৃষকদের গোডাউনে পচছে হাজার হাজার টন পেঁয়াজ। এতে একদিকে যেমন কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন, তেমনি ব্যবসায়ীরাও হারাচ্ছেন বড় অঙ্কের মুনাফা। এমন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে তারা হতভম্ব।
**কারণ একটাই: বাংলাদেশের আত্মনির্ভরশীলতার পথে যাত্রা**
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত যতই বিস্ময় প্রকাশ করুক না কেন, এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কারণ। আর সেই কারণের কেন্দ্রে আছে বাংলাদেশের পরিবর্তিত বাণিজ্যনীতি এবং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। একসময় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির ওপর অত্যধিক নির্ভরতা বাংলাদেশের বাজারকে ঝুঁকির মুখে ফেলতো। ভারতের অভ্যন্তরীণ সংকট বা রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা এলেই বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম আকাশ ছুঁতো। কিন্তু বাংলাদেশ এখন এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে বদ্ধপরিকর।
ঠিক যেমন পাকিস্তান বা চীন নিজেদের খাদ্য উৎপাদনে স্বনির্ভর হতে চেষ্টা করছে, বাংলাদেশও সেই পথেই হাঁটছে। অভ্যন্তরীণভাবে পেঁয়াজ উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক চাষ পদ্ধতি গ্রহণ এবং সঠিক সংরক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন অনেকটা স্বাবলম্বী। শুধু তাই নয়, যেখানে ভারতের ওপর শতভাগ নির্ভরতা ছিল, সেখানে এখন বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার, তুরস্ক, মিশর এবং সাম্প্রতিক সময়ে চীন থেকেও পেঁয়াজ আমদানি করে বাজারকে স্থিতিশীল রাখা হচ্ছে। এই বহুমুখী আমদানি নীতি ভারতের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি কঠিন বার্তা।
**ড. ইউনুসের অনুপ্রেরণা ও জাতীয় লক্ষ্যের প্রতিফলন**
তবে, এর সঙ্গে ড. ইউনুসের সম্পর্ক কোথায়? ড. ইউনুস সরাসরি পেঁয়াজ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন না, কিন্তু তিনি বাংলাদেশের সেই উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং আত্মমর্যাদার প্রতীক, যা গোটা জাতিকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। তার বিশ্বব্যাপী সম্মান এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার চিন্তাধারার প্রভাব অসামান্য।
ড. ইউনুস যেমন ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে সাধারণ মানুষকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ দেখিয়েছেন, ঠিক তেমনি জাতীয় পর্যায়েও বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। এই স্বপ্ন শুধু খাদ্য উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার এক বৃহৎ পরিকল্পনা। যখন বাংলাদেশ সরকার বিকল্প বাজার খুঁজে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়িয়ে এবং আমদানি নীতিতে বৈচিত্র্য এনে নিজস্ব অর্থনীতিকে মজবুত করে, তখন তা ড. ইউনুসের মতো দূরদর্শী ব্যক্তিত্বদের দেখানো পথের এক প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়ায়। এটি প্রমাণ করে, একটি জাতি যদি লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যায়, তবে পুরনো নির্ভরশীলতার শেকল ভেঙে ফেলা সম্ভব। ঢাকার এই নীতিগত পরিবর্তনই এখন দিল্লির পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের “কাঁদাচ্ছে”।
**ভবিষ্যতের পথচলা**
বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ কেবল পেঁয়াজেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ধীরে ধীরে অন্যান্য কৃষিপণ্যেও বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীলতার দিকে এগোচ্ছে। এটি ভারতের জন্য একটি সতর্কবার্তা যে, শুধুমাত্র ভৌগোলিক নৈকট্য বা ঐতিহাসিক নির্ভরতা আর বর্তমান বিশ্ববাণিজ্যের প্রধান চালিকাশক্তি নয়। বরং, প্রতিটি দেশই তার নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং জাতীয় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নীতি নির্ধারণ করছে।
এই প্রেক্ষাপটে, ভারতের ব্যবসায়ীদের উচিত তাদের রপ্তানি নীতি ও বাজার কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবা। কারণ, ঢাকার মাটিতে দাঁড়িয়ে ড. ইউনুসের মতো ব্যক্তিত্বরা যে আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন, তা কেবল একটি স্বপ্ন নয়, বরং এক দৃঢ় বাস্তবতা, যা ধীরে ধীরে ভারতের প্রথাগত রপ্তানি বাজারগুলোতে পরিবর্তনের ঢেউ তুলছে।


