## ভূমিকম্প পরবর্তী ভবন সুরক্ষা স্ক্যান সেবা চালু করেছে জামায়াত: আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা ও নিরাপত্তা
সম্প্রতি ঢাকাসহ সারাদেশে ৫.৭ মাত্রার এক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এই ভূমিকম্পের ফলে বেশ কিছু ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে, কোথাও কোথাও ভবন হেলেও পড়ার খবর পাওয়া গেছে। শুধু একবার নয়, এরপর আরও তিন দফা কম মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় মানুষের মনে ভীতি আরও গভীর হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের উদ্বেগ কমাতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রকৌশল বিভাগ এক মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারা ভূমিকম্প পরবর্তী ভবন সুরক্ষা স্ক্যান সেবা চালু করেছে।
**কেন এই উদ্যোগ জরুরি?**
ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা যে কোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এবং ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময়ই বিদ্যমান। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর অনেক মানুষ তাদের বাসস্থান বা কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। দৃশ্যমান ক্ষতির পাশাপাশি ভবনের কাঠামোগত যে কোনো দুর্বলতা ভূমিকম্পের সময় মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে অভিজ্ঞ প্রকৌশলী দ্বারা পরীক্ষা না করালে ভেতরের ক্ষতি অনেক সময় বোঝা যায় না, যা ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
**জামায়াতের প্রকৌশল বিভাগের মহতী উদ্যোগ**
এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে জনসেবার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রকৌশল বিভাগ তাদের বিশেষায়িত টিম নিয়ে মাঠে নেমেছে। তারা ঢাকাসহ সারাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, বাসা এবং দোকান ঘর **বিনামূল্যে** পরীক্ষা করে দেখবে। এই সেবার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং নিশ্চিত করা যে তাদের বাসস্থান ও কর্মস্থল ভূমিকম্পের পরবর্তী সময়েও নিরাপদ আছে। প্রকৌশলীগণ অত্যাধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ভবনের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
**সেবা গ্রহণের পদ্ধতি**
এই বিনামূল্যে ভবন সুরক্ষা স্ক্যান সেবা পেতে আগ্রহী ব্যক্তিরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্ট জেলা বা মহানগরী কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন। অথবা তাদের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত হেল্পলাইন নম্বরেও যোগাযোগ করা যাবে। আপনার আবেদনের প্রেক্ষিতে অভিজ্ঞ প্রকৌশলী দল নির্ধারিত সময়ে আপনার বাড়ি বা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবে। এই পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া যাবে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা হবে।
**নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে এগিয়ে আসুন**
ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার ও বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা ও প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এই মহতী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জনকল্যাণমূলক এই সেবা গ্রহণ করে আপনার নিজের এবং আপনার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। আতঙ্কিত না হয়ে, সচেতনতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ঝুঁকিমুক্ত জীবন নিশ্চিত করতে আজই এই বিনামূল্যের সেবা গ্রহণ করুন। নিরাপদ থাকুন, সুস্থ থাকুন।



