**জামায়াতের আমিরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের ‘হৃদ্যতাপূর্ণ’ বৈঠক**
সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াতের আমিরের কার্যালয়ে এ দুটি পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
**মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ‘আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ’ আলোচনা**
সকাল আটটায় ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কনসোলার এরিক গিলম্যান, পাবলিক অফিসার মনিকা এল সাই, পলিটিক্যাল অফিসার জেমস স্টুয়ার্ট এবং পলিটিক্যাল স্পেশালিষ্ট ফিরোজ আহমেদ।
জামায়াতের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, সাক্ষাৎকারটি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, শিল্প-বাণিজ্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় জামায়াতের ইতিবাচক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এই বৈঠকে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান।
**ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক**
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের পরপরই ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও জামায়াত আমিরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পৃথক এক ফেসবুক পোস্টে জামায়াত জানায়, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সকাল সাড়ে নয়টায় জামায়াতের আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন দূতাবাসের পলিটিক্যাল ফার্স্ট সেক্রেটারি সেবাস্টিন রিগার ব্রাউন।
এই মতবিনিময়ে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণতন্ত্রকে অর্থবহ করার বিষয়টি আলোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়। ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
এ বৈঠকেও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
**রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে এই বৈঠকগুলোর তাৎপর্য**
দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিকদের পৃথক বৈঠকগুলো বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে এই বৈঠকগুলো নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এসব কূটনৈতিক আলোচনা যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তা বলাই বাহুল্য। এই বৈঠকগুলোর ফলাফল এবং এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব জানতে রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি এখন সামনের দিনগুলোর দিকে।



