কোথাও রাস্তার ওপর রাখা হয়েছে বড় ট্রাক, আবার কোথাও ভেঙে ফেলা হয়েছে কালভার্ট। একটি স্থানে নালার স্ল্যাবও তুলে ফেলা হয়েছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযানে গিয়ে এসব প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা, অভিযানের খবর আগেই পেয়ে গিয়েছিল জঙ্গল সলিমপুরে অবস্থান করা সন্ত্রাসীদের একটি অংশ। তাই অভিযানের আগের রাতেই তারা এসব প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাখে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব প্রতিবন্ধকতা তৈরির উদ্দেশ্য ছিল আলীনগর এলাকায় যৌথ বাহিনীর প্রবেশ ঠেকানো। আলীনগরে প্রবেশের প্রধান সড়কেই একটি বড় ট্রাক রেখে পথ অবরুদ্ধ করা হয়। এছাড়া আলীনগরের কাছাকাছি একটি কালভার্টও ভেঙে ফেলা হয়।
জানতে চাইলে এসব প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি স্বীকার করেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান। বেলা ১১টার দিকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ছিন্নমূল ও আলীনগর—দুটি এলাকাই জঙ্গল সলিমপুরের অংশ। ছিন্নমূলের পরেই আলীনগর অবস্থিত। ছিন্নমূল এলাকায় যাওয়ার পর আলীনগরে ঢোকার মুখে সড়কে একটি ট্রাক রেখে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। পরে সেখানে থাকা বাহিনীর সদস্যরা ট্রাকটি সরিয়ে সামনে এগিয়ে যান।
তিনি জানান, কিছু দূর এগোতেই দেখা যায় একটি কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা সম্ভবত রাতের আঁধারে করা হয়েছে। পরে ওই স্থান ইট–বালি দিয়ে ভরাট করে যৌথ বাহিনীর গাড়ি আলীনগরে প্রবেশ করে।
অভিযান শুরুর আগেই কীভাবে এসব প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলো—এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল হাসান বলেন, ‘এটি অনেক বড় অভিযান। এখানে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। জঙ্গল সলিমপুর এলাকা যারা নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের সিএনজি অটোরিকশার চালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সোর্স রয়েছে। কোনোভাবে হয়তো তারা অভিযানের খবর আগেই জেনে গেছে।’
জঙ্গল সলিমপুরে বর্তমানে সন্ত্রাসীদের দুটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রোকন উদ্দিন। ইয়াসিন গত জানুয়ারিতে ওই এলাকায় অভিযানে যাওয়া এক র্যাব কর্মকর্তাকে হত্যার মামলার প্রধান আসামি। জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় তাঁর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।


