## চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহকালে হামলার শিকার সময় টিভির প্রতিবেদক: স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদমাধ্যম সবসময়ই সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। কিন্তু যখন সেই দর্পণের ওপরই আঘাত আসে, তখন তা পুরো সমাজকেই নাড়া দেয়। এমনই এক দুঃখজনক ঘটনার সাক্ষী হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ। সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন সময় টিভির নির্ভীক প্রতিবেদক জাহাঙ্গীর আলম। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক এমপি আমিনুল ইসলামের সমর্থকদের দ্বারা এই হামলা সংঘটিত হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
**ঘটনার বিস্তারিত:**
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর এলাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্র প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে একটি মশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। সময় টিভির প্রতিবেদক জাহাঙ্গীর আলম তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে এই জনগুরুত্বপূর্ণ মিছিলের সংবাদ সংগ্রহে গিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংবাদ সংগ্রহের এক পর্যায়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলামের একদল সমর্থক হঠাৎ করেই তাকে ঘিরে ধরে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা জাহাঙ্গীরের ওপর চড়াও হয় এবং হামলা চালায়। এসময় তার ব্যবহৃত ক্যামেরা, মাইক্রোফোন এবং সংবাদ সংগ্রহের অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। বর্বরোচিত এই হামলায় জাহাঙ্গীর আলম নিজেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও আহত হন।
**হামলার প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব:**
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থী বাছাই নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে নানা ধরনের টানাপোড়েন ও কোন্দল চলছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরেও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে যেই মশাল মিছিল হচ্ছিল, তা সেই অভ্যন্তরীণ কোন্দলেরই বহিঃপ্রকাশ। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম সেই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিই তুলে ধরতে গিয়েছিলেন, যা জনগণের জানার অধিকারের অংশ। এমন পরিস্থিতিতে একজন সংবাদকর্মীর ওপর হামলা কেবল ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।
**প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ:**
হামলার পরপরই সহকর্মীরা ও স্থানীয়রা জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও তিনি মানসিকভাবে আতঙ্কিত। এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ সারা দেশের সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে। একইসাথে, ভবিষ্যতে যেন কোনো সংবাদকর্মীকে এমন হয়রানি বা হামলার শিকার হতে না হয়, সেজন্য সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি উঠেছে।
**গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত:**
সংবাদ সংগ্রহকালে একজন পেশাদার প্রতিবেদকের ওপর এমন হামলা কেবল অগ্রহণযোগ্যই নয়, এটি গণতন্ত্র এবং স্বাধীন মত প্রকাশের মৌলিক অধিকারের ওপর চরম আঘাত। গণমাধ্যমকে এভাবে বাধাগ্রস্ত করা হলে তা সমাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমরা আশা করি, প্রশাসন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করবে। সংবাদকর্মীরা যেন নির্ভয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।



