স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অবৈধ অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় চাঁদাবাজদের শনাক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করার কাজ চলছে। তালিকা চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় কিংবা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ ইতোমধ্যে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী এবং অপরাধী নেটওয়ার্কের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রযুক্তিভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ ও মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানের মাধ্যমে তালিকা তৈরি করছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ–এ ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে বাজার, পরিবহন রুট, শিল্পাঞ্চল ও জনবহুল এলাকায় চাঁদাবাজির প্রবণতা কমাতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জনগণকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক একটি হত্যাকাণ্ড, যা “হাদি হত্যাকাণ্ড” নামে উল্লেখ করা হয়েছে, তার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং তদন্ত শেষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া জনগণকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোথাও চাঁদাবাজি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দেখা গেলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় তথ্য দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। সরকার অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে এবং আইন অনুযায়ী সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।



