**চট্টগ্রামের পরও কেন সতর্ক হলো না সরকার, হাদি ইস্যুতে রিজভীর প্রশ্ন**
গতকাল শুক্রবার ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। হাদি নামক এক ব্যক্তিকে গুলি করার ঘটনা কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি রাষ্ট্রের প্রতি জনমনে গভীর হতাশার জন্ম দিয়েছে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের সতর্কতা ও সক্ষমতা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। বিশেষত, চট্টগ্রামের মতো ঘটনার পরও সরকার কেন সতর্ক হলো না, এই প্রশ্নটি এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলে।
**মর্মান্তিক হাদি কাণ্ড: নিরাপত্তা কোথায়?**
রিজভী তার বিবৃতিতে হাদির ওপর গুলি চালানোর ঘটনাকে “মর্মান্তিক ও মর্মস্পর্শী” বলে অভিহিত করেছেন। তার কথায়, “গতকাল শুক্রবার মর্মান্তিক ও মর্মস্পর্শী ঘটনা ঘটেছে। হাদিকে গুলি করা হয়েছে।” এই একটি বাক্যই ঘটনার ভয়াবহতা এবং জনগণের মধ্যে সৃষ্ট আতঙ্কের চিত্র তুলে ধরে। একজন সাধারণ নাগরিক দিনের বেলায় এমন হামলার শিকার হলে, প্রশ্ন ওঠে দেশের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ আসলে কী করছে?
**’নিরপেক্ষ’ সরকারের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন**
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন নিজেদের ‘নিরপেক্ষ’ দাবি করছে এবং একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তখন এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সরকারের নিরপেক্ষতা এবং কার্যকারিতা উভয়কেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। রিজভী সরাসরি এই সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, “ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার তো নিরপেক্ষ। তাদের সময়ে এতো সন্ত্রাসী কী করে বাড়লো, কোথা থেকে তারা রাজত্ব করছে?” এই প্রশ্নটি অত্যন্ত যৌক্তিক। একটি নিরপেক্ষ সরকার যদি সন্ত্রাসীদের দমনে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের নিরপেক্ষতার দাবি কতটুকু অর্থবহ?
**শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার ক্ষুন্ন**
জনগণের মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদে বসবাস করার অধিকার। রিজভী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখন তো সবার শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার কথা।” কিন্তু হাদির মতো ঘটনা প্রমাণ করে, সাধারণ মানুষের সেই অধিকার আজ গুরুতর হুমকির মুখে। সন্ত্রাসীদের এমন প্রকাশ্য দৌরাত্ম্য জনমনে ভীতি সৃষ্টি করছে এবং রাষ্ট্রের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি করছে।
**চট্টগ্রামের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়নি সরকার?**
হাদির ওপর হামলার ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। এটি সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতিরই অংশ। বিশেষ করে, চট্টগ্রামের ঘটনার (যেখানে হয়তো কোনো সহিংস ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হয়েছিল) পর যখন দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও সতর্ক থাকার কথা ছিল, তখন এমন একটি ঘটনা সরকারের গাফিলতিকেই স্পষ্ট করে তোলে। রিজভীর প্রশ্নটি এখানেই প্রাসঙ্গিক: একটি বড় ঘটনার পরও কেন সরকার সতর্ক হলো না? কেন আগের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া হলো না?
**প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ ও জবাবদিহিতা**
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেকোনো সরকারের মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু যখন একের পর এক ঘটনা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ নিরাপদ নয়, তখন সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কাজ ছিল একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা। কিন্তু নির্বাচনের আগে যদি এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে থাকে, তবে সে লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সরকারকে অবিলম্বে এই সন্ত্রাস দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু রিজভী নন, দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিক এখন সরকারের কাছে জবাবদিহিতা এবং কার্যকর পদক্ষেপ আশা করছেন। হাদির ওপর হামলার ঘটনা একটি সতর্কবার্তা। সরকার যদি এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। জনগণের আশা, সরকার অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবে।



