বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নক্ষত্রের পতন। যিনি জীবদ্দশায় বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই, …এই দেশ, এই দেশের মাটি, এই দেশের মানুষই আমার সবকিছু।’ দেশ-মাটি ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা নিবিড় বন্ধন ছিন্ন করে চিরবিদায় নিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এক ‘গৌরবময় বিদায়’ যেন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভোগা এই আপসহীন নেত্রী গতকাল মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। একটি জীবনব্যাপী সংগ্রামের পর, শারীরিক অসুস্থতার সাথে এক দীর্ঘ যুদ্ধ শেষে তিনি চিরতরে শান্ত হলেন।
খালেদা জিয়া – শুধু একটি নাম নয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ, দৃঢ় ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে তিনি দেশ ও জনগণের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর সারা জীবনের রাজনৈতিক পথচলায় দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি অঙ্গীকার ছিল অবিচল। তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তি – ‘বাংলাদেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই, …এই দেশ, এই দেশের মাটি, এই দেশের মানুষই আমার সবকিছু’ – প্রমাণ করে দেশের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও আত্মিক টান।
২৩ নভেম্বর শেষ দফায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই কার্যত খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন। এক মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দেশি-বিদেশি অসংখ্য চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন, নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম মেনেই সব চেষ্টা ব্যর্থ করে গতকাল সকালে তিনি চিরবিদায় নেন। এ সময় তাঁর বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ভাই-বোনসহ পরিবারের সদস্যরা শয্যাপাশে ছিলেন।
এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি ঘটল। দেশের রাজনীতিতে এক শূন্যতা তৈরি হলো, যা পূরণ করা হয়তো সহজ হবে না। আপসহীন নেত্রী হিসেবে তিনি যেমন সমালোচিত হয়েছেন, তেমনি অগণিত মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাও অর্জন করেছেন। তাঁর ‘গৌরবময় বিদায়’ দেশের ইতিহাসের পাতায় চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।



