**গাজায় ইসরায়েলের হামলা চলছেই, নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৭০ হাজার**
গাজা উপত্যকা, এক মানবিক বিপর্যয়ের নাম। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও কিংবা কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা থামছে না। এরই মধ্যে এই উপত্যকায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল শনিবার এক ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সেখানে অন্তত ৭০ হাজার ১০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ। এগুলো শুধু সংখ্যা নয়, প্রতিটি সংখ্যা এক একটি জীবন, এক একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি।
যুদ্ধবিরতির আলোচনা ও আন্তর্জাতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল তার সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গতকালও এর ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পূর্বে বনি সুহেইলা শহরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় মর্মান্তিকভাবে দুই ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে শিশুদের এমন মৃত্যু চলমান সংঘাতের ভয়াবহতাকেই তুলে ধরে। এটি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন, যা বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হচ্ছে।
এই চলমান সহিংসতা কেবল প্রাণহানিই ঘটাচ্ছে না, গাজার অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে, লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং তীব্র মানবিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। খাদ্য, পানি, ওষুধ ও আশ্রয়ের অভাবে হাজার হাজার মানুষ ধুঁকছে, যা তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে।
গাজায় প্রতিদিনের এই হত্যাযজ্ঞ এবং মানবিক বিপর্যয় একটি গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে – আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা কি সত্যিই কার্যকর? বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর উচিত এই সংঘাত বন্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি টেকসই শান্তির পথ তৈরি করা। ৭০ হাজারেরও বেশি প্রাণহানির এই পরিসংখ্যান কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি মানবতার জন্য এক গভীর ক্ষত। এই ক্ষত দ্রুত শুকিয়ে যাক, এটাই কাম্য।



