## খুলনার আদালতে হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার সময় গুলিতে নিহত ২: আতঙ্ক ও উদ্বেগে আদালত চত্বর
আইনের সুরক্ষায় যেখানে আশ্রয়, সেখানেই যদি ঘটে নৃশংসতা, তবে সাধারণ মানুষের আস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? খুলনার আদালত প্রাঙ্গণে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। গত রবিবার (৩০ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে দুই যুবককে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ও চাপাতি হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় দু’জনেরই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
**ঘটনার বিস্তারিত:**
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতরা হলেন রূপসার বাগমারা এলাকার রাজন ও হাসিব। তারা মহানগর ও দায়রা জজ আদালতে একটি অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিতে এসেছিলেন। হাজিরা শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার মুহূর্তেই অতর্কিত হামলার শিকার হন তারা। বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায় এবং চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এই আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় আদালত চত্বরে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান। দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। দিনের আলোয়, আইনের পবিত্র আঙিনায় এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ড সবাইকে স্তম্ভিত করেছে।
**আদালত প্রাঙ্গণে আতঙ্ক ও উদ্বেগ:**
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো আদালত চত্বরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে বিচারপ্রার্থীরা আইনের আশ্রয় নিতে আসেন, সেখানে যদি এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে খুনখারাপি হয়, তবে তাদের নিরাপত্তা কোথায়?
খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে ও গ্রেফতার করতে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে।
আদালতের আইনজীবীরা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পবিত্র জায়গায় এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং এটি বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। তারা দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
**নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন:**
আদালত প্রাঙ্গণ একটি সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে মানুষ বিচার ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আসে। কিন্তু এমন একটি স্থানে প্রকাশ্যে এভাবে দুইজন মানুষকে হত্যা করার ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মারাত্মক ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। এই ঘটনা শুধু নিহতদের পরিবারকেই নয়, পুরো খুলনার আপামর জনতাকে আতঙ্কিত করেছে এবং তাদের মনে প্রশ্ন জাগিয়েছে যে, আসলে কোথায় নিরাপদ?
আমরা আশা করি, পুলিশ প্রশাসন দ্রুততার সাথে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করবে এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে। একই সাথে, আদালত প্রাঙ্গণসহ জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার দাবিও জোরদার হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক সকল মানুষের।



