## উত্তেজনার মাঝেই ভারতে ম্যাচ পরিচালনা করছেন বাংলাদেশের সৈকত!
ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়, এটি আবেগ, ঐতিহ্য আর জাতীয়তার প্রতিচ্ছবি। আর যখন এই আবেগ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনার জন্ম দেয়, তখন খেলার বাইরের ঘটনাগুলোও আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এই উত্তেজনার আবহেই একটি খবর সকলের নজর কেড়েছে: বাংলাদেশের একজন ম্যাচ রেফারি, সৈকত, ভারতে ম্যাচ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালন করছেন।
মাত্র সপ্তাহ দুয়েক আগেও যদি বলা হতো যে বাংলাদেশের একজন কর্মকর্তা ভারতে ম্যাচ পরিচালনা করছেন, তাহলে হয়তো তা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয় মনে হতো। কারণ, আইসিসি বা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) ইভেন্টগুলোতে বিভিন্ন দেশের ম্যাচ অফিসিয়ালরা নিয়মিতই একে অপরের দেশে যাতায়াত করেন। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি পরিস্থিতিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
আইপিএল থেকে বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া এবং এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও ভুল বোঝাবুঝি সম্পর্ককে অনেকটাই অবনতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমানের মতো একজন লিজেন্ডারি ক্রিকেটারের হঠাৎ বাদ পড়া বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম – সর্বত্রই এই বিষয়টি নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই এটিকে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের পারস্পরিক সম্পর্কের ফাটল হিসেবে দেখছেন।
এমন এক পরিস্থিতিতে, যখন দু’দেশের মধ্যে ক্রিকেটীয় সৌহার্দ্যে কিছুটা ফাটল দেখা যাচ্ছে, তখন সৈকতের মতো একজন পেশাদার কর্মকর্তার ভারতে গিয়ে ম্যাচ পরিচালনা করা এক অন্যরকম তাৎপর্য বহন করে। এটি শুধু তাঁর পেশাদারিত্বের প্রমাণ নয়, বরং ক্রিকেট খেলার অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যকেও তুলে ধরে। মাঠের বাইরের ঘটনা যতই বিতর্কিত হোক না কেন, খেলার মাঠে নিরপেক্ষতা এবং নিয়মনিষ্ঠাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সৈকত তাঁর কাজ দিয়ে প্রমাণ করছেন যে, আবেগ বা রাজনৈতিক টানাপোড়েন খেলার মাঠে পেশাদারিত্বকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করতে পারে না।
সৈকতের এই উপস্থিতি দু’দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে বিদ্যমান স্বাভাবিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ইঙ্গিত দেয়। যদিও ফ্যানদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে, তবুও অফিসিয়াল পর্যায়ে এখনও সেই পেশাদারিত্ব ও প্রটোকল বজায় আছে, যা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ক্রিকেট শুধু জয়-পরাজয়ের খেলা নয়, এটি সেতু বন্ধনেরও খেলা, যেখানে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা এবং ভক্তরা একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে।
উত্তেজনার মাঝেও সৈকতের মতো কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ ও পেশাদার আচরণ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। আমরা আশা করি, এই ধরনের ইতিবাচক ঘটনাগুলো ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে আবারও উষ্ণতা ফিরিয়ে আনবে এবং দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। ক্রিকেট মাঠে জয় হোক শুভবোধ আর পেশাদারিত্বের।


