অবশ্যই, আপনার জন্য ব্লগ পোস্টটি নিচে দেওয়া হলো:
—
**আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দেব না, কাজ দেব: জামায়াত আমির**
দেশের যুবসমাজকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এক নির্বাচনি জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি যুবকদের জন্য বেকার ভাতার বদলে কাজের সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য কেবল কর্মসংস্থান সৃষ্টি নয়, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুশাসনের এক নতুন বার্তা নিয়ে এসেছে।
**বেকার ভাতা নয়, কাজের সুযোগ**
ডা. শফিকুর রহমানের স্পষ্ট ঘোষণা, “আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দেব না, কারণ বেকার ভাতা বেকার তৈরির কারখানা হবে।” তার মতে, বেকার ভাতা যুবকদের অলস করে তোলে এবং তাদের মধ্যে কাজ করার স্পৃহা কমিয়ে দেয়। এর বদলে তিনি যুবকদের জন্য কাজ সৃষ্টির অঙ্গীকার করেছেন। তার লক্ষ্য হলো যুবকদের দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরিত করা, যাতে তারা দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুবকদের শুধু অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করাই নয়, বরং তাদের আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।
**উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ ভিশন**
জামায়াত আমির তার বক্তব্যে উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়েও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি ক্ষমতায় গেলে উত্তরবঙ্গে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেখানে গাইবান্ধা জেলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারিত হবে এবং স্থানীয় মেধাবীরা উপকৃত হবে।
শুধু তাই নয়, ডা. শফিকুর রহমান উত্তরবঙ্গকে একটি কৃষিভিত্তিক রাজধানীতে পরিণত করার স্বপ্ন দেখেন। এই অঞ্চলের উর্বর ভূমি ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে কাজে লাগিয়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তিনি বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি, এই অঞ্চলে ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) স্থাপনের মাধ্যমে শিল্পায়ন ঘটিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথাও তিনি বলেছেন।
উত্তরাঞ্চলের মরা নদীগুলোকে সচল করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেছেন যে, নদীগুলো সচল হলে এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে। নদীগুলো আবার জীবন ফিরে পেলে কৃষি, মৎস্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন প্রাণ সঞ্চার হবে, যা সামগ্রিকভাবে অঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।
**আবু সাঈদের স্বপ্ন ও সুশাসনের আহ্বান**
ডা. শফিকুর রহমান উত্তরবঙ্গের কৃতি সন্তান আবু সাঈদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি মনে করেন, অতীতের ৫৪ বছরের দুর্নীতি, দুঃশাসন, গুম, খুন এবং চাঁদাবাজি থেকে পরিত্রাণ পেতে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তাই তিনি জনগণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।
**শেষ কথা**
ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং উন্নয়ন কৌশল নিয়ে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। বিশেষত যুবকদের বেকার ভাতা না দিয়ে কর্মমুখী করে তোলার যে প্রস্তাব, তা অনেকের কাছেই নতুন চিন্তার খোরাক জোগাবে। উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন থেকে শুরু করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার এই ভিশন কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলবে। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন এবং যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক।
—



